ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসায় শুরু করার উপায়?

0

ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসায় শুরু করার উপায়?
ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসায় শুরু করার উপায়?

অনলাইনে কাজের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার কথা নিয়ে যখনই কথা বলা হয় তখনই ব্লগিং এবং ইউটিউব এর মতো প্লাটফর্ম গুলো থেকে ইনকাম করার কথা ছাড়া আর অন্য উপায় গুলোর বিষয়ে আলোচনা অনেক কম করতে দেখা যায়।

তবে আপনি চাইলে নিজের ঘরে বসে অন্যান্য অনলাইন ব্যবসায় গুলো করেও কিন্তু ইন্টারনেট থেকে ভালো পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে অনেকেই আছেন যারা নিজের অবসর সময়ে অনলাইন মাধ্যমে খন্ডকালীন কাজ করে টাকা ইনকাম করার ভালো ভালো উপায় গুলো খুঁজে থাকেন। যদি এরকম ইনকামের কথা আপনি ভেবে থাকেন তাহলে আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

কেননা আজকের আর্টিকেলে আপনাদেরকে ঘরে বসে করার মতো এমন কিছু অনলাইন ব্যবসায় নামের তালিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যাতে আমি বা আপনি যে কেউ খুব সহজে শুরু করতে পারবে।

নিচে আমরা বেশ কিছু জনপ্রিয় অনলাইন ব্যবসায় নিয়ে আলোচনা করব।

১. ই-কমার্স ব্যবসায়:

ই-কমার্স ব্যবসায় বিষয়ে আমরা অনেকেই কম বেশি জানি। বর্তমানে প্রত্যেকেই নিজের ঘরে বসে নানান E-Commerce Website গুলোর মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু কিনে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন।

অর্থাৎ আপনি চাইলে নিজেই একটি E-Commerce Website তৈরি করে বিভিন্ন পণ্য বা সেবা বিক্রি করে নিজের একটি Online E-Commerce business শুরু করতে পারেন।

বর্তমানে একটি E-Commerce Website তৈরি করাটা অনেক সহজ এবং সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। তাছাড়া YouTube এর মতো প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে E-Commerce Website সম্পর্কিত নানা ধরণের ভিডিও দেখে কিভাবে শুরু করতে হয় তা জেনে নিতে পারবেন।

২.ফেসবুক মার্কেটপ্লেস দ্বারা ব্যবসায়:

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলের বিজনেস পেজ দ্বারা ফেসবুক মার্কেট প্লেসে অনলাইন ব্যবসায় শুরু করা যায়।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেস আসলে ফেসবুকের দ্বারা তৈরি একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে যেকোনো ফেসবুক ব্যবহারকারী নতুন পুরাতন যেকেনো পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন।

৩. কনটেন্ট তৈরির ব্যবসায়:

মহিলা বা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ঘরে বসে ইনকাম করার মতো সেরা অনলাইন ব্যবসায় মধ্যে বর্তমান সময়ে কনটেন্ট তৈরি করার ব্যসায় হল একটি ট্রেডিং ব্যবসায়।

যদি লেখালেখি এবং ভিডিও বা অডিও কনটেন্ট বানাতে আগ্রহী থাকেন তাহলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্লগ লিখে, ইউটিউব চ্যানেলে বা ইনস্টাগ্রামে ভিডিও বা অডিও কনটেন্ট দিয়ে অথবা Spotify তে অডিও কনটেন্ট আপলোড করে দারুণভাবে ইনকাম করতে পারেন।

এই কাজ আপনি নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট বা চ্যানেল এর জন্য কারার পাশাপাশি অন্য সব ওয়েবসাইট মালিকদের থেকে টাকা নিয়ে তাদের জন্যেও করতে পারেন।

৪. ফ্রিল্যান্সিং বিজনেস:

ফ্রিল্যান্সিং পেশাতে কোনো রকমের অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজের সময় মতো দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্লাইয়েন্টের কাজ করে ইনকাম করা যায়। এখানে দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্স, কনটেন্ট রাইটিং বা অন্যান্য যেকোনো ধরণের কাজ গুলো শুরু করতে পারেন।

ইন্টারনেট এমন কিছু মার্কেটপ্লেস আছে, যেগুলোতে গিয়ে নিজের একটি ফ্রি একউন্ট তৈরি করে কাজ খুঁজতে ও করতে পারবেন। কিছু সেরা এবং ভালো ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলো হলো Guru, Upwork, Fiverr, Freelancer.com ইত্যাদি।

৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবসা:

বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন ব্যবসায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে যেমন- ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, ওয়েবসাইট অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি গুলোতে অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের মার্কেটিং করতে হয়। 

এ সকল পণ্যের প্রচারের ক্ষেত্রে আপনাকে ব্যবহার করতে হয় একটি স্পেশাল অ্যাফিলিয়েট লিংকের। সেই লিংকের মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি হলে তার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন কোম্পানির দ্বারা পাওয়া যায়। যেমন- adCombo, CPAlead, CPAGRIP ইত্যাদি।

৬. অনলাইনে পেইড কোর্স বিক্রি করা:

অনলাইন পেইড কোর্স হল এক ধরণের অনলাইনে কোর্স যেটা যেকেনো বিষয়ে বানানো যেতে পারে। উদাহণর স্বরূপ, আপনি অনেক ভালো ইংরেজি বিষয়ে অভিজ্ঞ হলে সেক্ষেত্রে আপনি ইংরেজি বলার একটি কোর্স তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন।

হাজার হাজার লোকেরা নানান বিষয়ে অনলাইন কোর্স তৈরি করে ইন্টরনেটের মাধ্যমে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনাকম করছেন। একবার নিজের ভিডিও কোর্স তৈরি করার পর সেই একই কোর্স হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে নিয়মিত প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন।

এছাড়াও নিজের তৈরি কার কোর্সগুলো আপনি বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে যেমন-YouTube, Social Media, Paid Ads ইত্যাদি এবং ই-লার্নিং ওয়েবসাইটের (Udemy, Skillshare) মাধ্যমেও বিক্রি করতে পারেন।

ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসায় শুরু করার টিপস:

১. বিসনেস অফ ইন্টাররেস্ট:

আমাদের সবার সব বিষয়ে ইন্টারেস্ট থাকবে এমনটা হয় না। তাই অনলাইনে ব্যবসায় শুরু করার ক্ষেত্রে নিজের ইন্টারেস্টকে অবশ্যই গুরুত্ব দিন।

আপনার যদি এ্যাকিউন্টিং এর বিষয়ে ইন্টাররেস্ট থাকে, তাহলে ফ্রিল্যান্স বুককিপিংকে অনলাইন কাজ হিসেবে বেছে নিতে পারেন। আবার ভিডিওগ্রাফি আপনার পছন্দের বিষয় হলে ইউটিউব চ্যানেল খোলা আপনার জন্যে লাভজনক ব্যবসায় হতে পারে।

২. প্রসেস অফ দ্যা বিজনেস:

ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসায় করার প্রচুর আইডিয়া যেমন ইন্টারনেটে রয়েছে, তেমনই সেই আইডিয়া গুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ফ্রি টিপসগুলোও ইন্টারনেটে ভরে পরে আছে।

তাই ব্যবসায় শুরুর আগে বিভিন্ন ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে ব্লগ বা আর্টিকেলগুলো পড়ে বা অভিজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করে নিন।

এছাড়াও, ব্যবসায় বিষয়ে বিস্তারিত বোঝার জন্যে Udemy এবং Coursera এর মতো সাইটের বিভিন্ন ফ্রি কোর্স গুলো দেখে নিতে পারেন।

৩. টাইম ম্যানেজমেন্ট:

যেকোনো কাজের শুরুতেই সবার আগে টাইম ম্যানেজ করার বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। আপনি কোন সময়ে কাজে মন দিতে পারবেন এবং সারা দিনের ঠিক কতটা সময় ব্যবসায় দিতে পারবেন, সেই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে তবেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ নিয়ম মেনে কাজ না করলে কোনো কাজই বেশি দিন টিকে থাকে না। তাই অনলাইন ব্যবসায় ক্ষেত্রে টাইম ম্যানেজমেন্ট এর বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

৪.বিজনেস প্ল্যান করা:

বিজনেস প্ল্যান সঠিক না থাকলে যেকোনো ব্যবসাতেই সফল হওয়া অনিশ্চিত। তাই প্রথমেই নিজের ব্যবসায়ে একটা টার্গেট ঠিক করতে হবে।

ব্যবসায় থেকে কেমন লাভ-ক্ষতির আশা করছেন, কি কি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, ব্যবসায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আছে কনিা বা মার্কেটে ব্যবসায় চাহিদা কেমন এইসব কিছর বিষয়েই ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিন।

বিজনেস শুরুর প্রথমে অবশ্যই ক্লাইন্ট এর সাথে পরিষ্কার চুক্তি করুন। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে এর অনলাইন প্রেসেস ও সঠিক ম্যানেজমেন্ট থাকাটা অত্যেন্ত জরুরি একটা বিষয়।

৫. সঠিক ক্লাইন্ট বা সাপ্লাইয়ার খোঁজা:

অনলাইন বিজনেস করতে নিজের সার্ভিস বা প্রোডাক্টগুলো কাউকে বিক্রি করার প্রয়োজন অবশ্যই পড়বে। তাই নিজের সার্ভিস বা প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করার জন্যে ক্লাইন্ট বা সাপ্লাইয়ার এর সাথে যোগাযোগ করুন। যেমন ফ্রিল্যান্স কনটেন্ট রাইটিংয়ের জন্য ক্লাইন্ট বা সাপ্লাইয়ার খুঁজতে হয় বা অনলাইন সেলিংয়ের জন্যেও ভেন্ডর খুঁজতে হয় এবং ইত্যাদি।

৬. ঠিক মতো আর্থিক ব্যবস্থা রাখা:

আপনি ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন রিসেলিংয়ের কাজ যাই বাছাই করুন না কেন, ঠিকমতো টাকা পাওয়াটাই হল আসল বিষয়। তাই অনলাইন পেমেন্ট, ব্যাংক একাউন্ট ট্রান্সফারের মতো বিষয়গুলো খেয়ার রাখুন। নিজের ক্লায়েন্ট, কাস্টমার বা ভেন্ডারদের সাথে মানি ট্রান্সজেকশনের বিষয়ে ক্লিয়ার থাকুন।

ছাত্র-ছাত্রীরা ঘরে বসে কোন অনলাইন ব্যবসায়টি করলে ভালো হবে?

নিজেদের স্কুল-কলেজ, পড়াশোনা, টিউশনি সমস্ত কিছু কমপ্লিট করার পর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সারাদিনে খুব কম সময়ই থাকে। আর এইটুকু সময়ের মধ্যে যদি কেউ ইনকাম করতে চান তাহলে ব্লগিং, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট লেখা, ইউটিউব চ্যানেলে ব্লগিং করার মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে পারেন।

এমনকি অনলাইন টিউটোরিং, ভার্চয়াল এ্যাসিস্ট্যান্স এর মতো কাজগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে সুবিধাজনক অনলাইন বিজনেস আইডিয়া হতে পারে।

লেখা লেখির বিষয়ে আগ্রহ থাকলে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং কনটেন্ট করতে পারেন। এইধরণের কাজগুলোতে কম সময়ে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব। আবার এইসব অনলাইনে কাজে সারাদিন নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার স্বাধীনতাও পাবেন।

মহিলাদের জণ্যে সেরা অনলাইন ব্যবসায় কোনটি?

ঘরে বাইরের নানান কাজ সামলে মহিলাদের কাছে ইনকাম করাটা একটু চাপের হলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। নিজের দৈনিক কাজগুলো সাথে সমন্বয় রেখে মহিলাদের জন্য টাকা ইনকামের সেরা কিছু অনলাইন ব্যবসায় গুলো হল অনলাইন টিউটোরিং, ফ্রিল্যান্সিং কনটেন্ট লেখা, ইউটিউব চ্যানেল, বুককিপিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ইনস্ট্রাগ্রাম ইনফ্লোয়েন্স এবং ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ইত্যাদি।

এছাড়াও আপনি হোয়াটস অ্যাপ বা ফেসবুকে অনলাইন প্রোডাক্ট সেল করেও ইনকাম করতে পারেন। এ ধরণের কাজের জন্য দিনে ২ থেকে ৭ ঘন্টা সময় যথেষ্ট। আর সারাদিনে যেকোনো সময়ে নিজের পছন্দ মতো নিজের কাজ গুলো করতে পারবেন।

Info IT BD সকল আপডেট পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেলে

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *